আজ
৩ মার্চ বৃহস্পতিবার বিশ্ব বন্য প্রাণী দিবস ২০২২ উপলক্ষ্যে শিক্ষার্থীদের পরিবেশবাদী সংগঠন টিম ফর এনার্জি এন্ড
এনভায়রনমেন্টাল রিসার্চ-তীর গাইবান্ধা সরকারি কলেজ শাখা ও গাইবান্ধা সরকারি
কলেজের প্রাণিবদ্যা বিভাগে উদ্যোগে এক বর্নাঢ্য শোভাযাত্রা
ও আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।
যার
ধারাবাহিকতায় বিশ্ব বন্যপ্রাণী দিবস ২০২২ অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন, গাইবান্ধা সরকারি কলেজের সম্মানিত সুযোগ্য অধ্যক্ষ প্রফেসর মোঃ খলিলুর রহমান এবং বিশেষ
অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শিক্ষক পরিষদের সাধারণ সম্পাদক জনাব এস. এম আশাদুল ইসলাম,
উদ্ভিদ বিদ্যা বিভাগের বিভাগীয় প্রধান প্রফেসর জীবন কুমার সাহা, ইংরেজী বিভাগের বিভাগীয় প্রধান জনাব, মোঃ আব্দুর রশিদ এবং বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষকবৃন্দ। সভায় সভাপতিত্ব করেন ড. আবু সালেহ
মোঃ মুসা, বিভাগীয় প্রধান প্রাণিবিদ্যা বিভাগ, গাইবান্ধা সরকারি কলেজ। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন, তীর গাইবান্ধা সরকারি কলেজ শাখার সভাপতি জিসান মাহমুদ , সহ-সভাপতি(১)
নাজমুল ইসলাম নিশিত, সহ-সভাপতি(২)
মোঃ সোলায়মান সরকার, সাধারন সম্পাদক মোঃ মোশারফ হোসেন এবং সাংগঠনিক সম্পাদক মোছাঃ জান্নাতুল মাওয়া, দপ্তর সম্পাদক মোঃ আব্দুর রহীম রাফি, কার্যকারি সদস্য শেখ ফরিদ আহমেদ, মোনতাকির রহমান , সাব্বির রহমান, সদস্য মোছাঃ আইরিন আক্তার সহ আরও রাজনৈতিক
ও অরাজনৈতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
অনুষ্ঠানের
উপস্থাপনায় ছিলেন তীর গাইবান্ধা শাখার কোষাধ্যক্ষ মোঃ জাহিদ রায়হান ও সাধারণ সদস্য
জান্নাতুল ফেরদৌস জেমী। উল্লেখিত
সারা বিশ্বব্যাপী বিপন্ন বন্যপ্রাণী রক্ষা করি প্রতিবেশ পুনরুদ্ধারে এগিয়ে আসি শ্লোগানকে সামনে রেখে এ বছর বিশ্ব
প্রানী দিবস পালিত হচ্ছে।
আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি প্রফেসর মোঃ খলিলুর রহমান বলেন, প্রতিটি বন্যপ্রাণীরই পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ অবদান। ক্ষুদ্র প্রাণী টিকটিকি, ব্যাঙ, সাপ, থেকে শুরু করে অতিকায় প্রাণী বাঘ, হাতি সবই আমাদের কোন না কোন ভাবে
আমাদের উপকারে আসে। পরিবেশ থেকে একটি মাত্র প্রাণী হারিয়ে গেলেই বিঘিন্ত হয় খাদ্য শৃংখল
এবং তার ক্ষতিকর প্রভাব এসে পড়ে আমাদের প্রাকৃতিক পরিবেশ ও অর্থনীতির উর্প।
পরাগায়ন, ফল ও বীজের
বিস্তারন, ক্ষতিকর কীটপতঙ্গ ধ্বংস করে এই সব প্রাণী
প্রাকৃতিক বন সৃষ্টি সহ
আমাদের অর্থনীতিতে রাখছে অসামান্য অবদান। যে পাখি ফসলের
ক্ষতিকারক পোকা খেয়ে ফসল রক্ষা করত, আমরা সেই পাখি শিকার করে প্রাকৃতিক ভাবে পোকা দমনের সুযোগ নষ্ট করছি। উল্টো কীটনাশক দিয়ে পরিবেশ , মাটি ও পানির বিপর্যয়
করছি। ফলে ফসলের উৎপাদন কমে যাচ্ছে। যে বাজপাখি/ঈগল
ফসলের ইদুর খেত, সেই ঈগল না থাকার কারনে
ফসলে ইদুরের উৎপাত বেড়ে যাচ্ছে। তাই বন্যপ্রাণীরা শিকার না করে মুক্তভাবে
রাখার জন্য আহবান করেন।
সভাপতি
ড. আবু সালেহ মোঃ মুসা বলেন, যদি প্রকৃতি, জীববৈচিত্র্য ও বন্যপ্রাণীর ভারসাম্য
নষ্ট হয়ে যায় তাহলে আমরা হারাবো আমাদের অমূল্য প্রাকুতিক সম্পদ, হ্রাস পাবে ভুমির উর্বরতা, কৃষিতে উৎপাদন কমে যাবে মারাত্মক ভাবে। আর আমরা হারাবো
আমাদের বাসযোগ্য সুন্দর এই পৃথিবীকে। পৃথিবীব্যাপী
ছড়িয়ে পড়া করোনার মতো মহামারী আজ জন-জীবনকে
বিপন্ন করছে কেবল সচেতনতা না থাকার ফলে।
তাই বন্যপ্রাণীকে শিকার না করে মুক্তভাবে
প্রকৃতিতে রাখার জন্য আহ্বান রাখেন।
গাইবান্ধা
শাখার সভাপতি জিসান মাহমুদ বক্তব্যে বলেন, বন্য প্রাণী একটি দেশের গুরত্বপূর্ণ প্রাকৃতিক ও অর্থনৈতিক সম্পদ,
তাই এদের রক্ষার দায়িত্ব আমাদের সকলের। বন্যপ্রাণী আইন ২০১২ অনুযায়ী বন্যপ্রাণী শিকার, ধরা, মারা, ক্রয়-বিক্রয়, পাচার, দখলে রাখা বা খাওয়া অপরাধ।
বন্যপ্রাণী অপরাধ দমনে এগিয়ে আসুন, জীব বৈচিত্র রক্ষা করি।
সাধারন
সম্পাদক মোঃ মোশারফ হোসেন বলেন, প্রকৃতির খাদ্য শৃঙ্খল রক্ষার্থে গুরত্বপূর্ণ অবদান রাখে বন্যপ্রাণী। তাই বিশ্ব প্রাণী দিবস ২০২২ ইং এ আমরা
শপথ গ্রহণ করলাম পরিবেশ ও প্রকৃতি সুরক্ষার
স্বার্থে বন্য প্রাণী করব।


0 Comments